নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
সদ্য বিলুপ্ত ও একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের বিগত ১৪ বছরের সমস্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ’।
সংগঠনটি বলছে, এই সম্পদ বিক্রি করে নিরীহ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এই দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মিজানুর রশিদ চৌধুরী।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে অনৈতিক ও বেআইনিভাবে এসআইবিএল, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত দুরবস্থা গোপন করে ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বিগত ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবং অসাধু চক্র জনগণের আমানত ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত বা বিলুপ্ত ঘোষণা করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
আবেদনে ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আটকে থাকা অর্থের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এসআইবিএল-এ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৩১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৩৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৭৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আটকে আছে।
বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ কে এম মিজানুর রশিদ চৌধুরী বলেন, “এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী, গৃহিণী ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা রয়েছেন। তাঁরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এখন প্রমাণিত হচ্ছে সেই তথ্যগুলো মিথ্যা ছিল। অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে নিরীহ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা বা সাজা দেওয়া অনধিকার চর্চা ও বেআইনি।”
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৫ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. উল্লিখিত ৫টি ব্যাংকের গত ১৪ বছরে কর্মরত সকল এমডি’র অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বণ্টন করা।
২. অবৈধ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে লাভবান কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৩. ব্যাংকের সকল পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।
৪. যেসব অডিট ফার্ম মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া অডিট রিপোর্ট দিয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করা।
৫. বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের যেসব কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা।
আবেদনে বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

