সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একীভূত হতে যাওয়া শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে পুঁজিবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর হলো।
মূল সিদ্ধান্ত:
বিএসইসি জানিয়েছে, একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকলেও ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল, ইউনিয়ন, এক্সিম এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর (স্টক-ব্রোকার, স্টক-ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার) নিবন্ধন সনদ নিয়মিত নবায়ন করা হবে। কেবল ব্যাংক একীভূত হচ্ছে—এই যুক্তিতে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হবে না।
সিদ্ধান্তের কারণ:
বিএসইসির গঠিত বিশেষ কমিটির পর্যালোচনা ও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:
১. বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কমিশনকে কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা দেয়নি।
২. হুট করে নিবন্ধন নবায়ন বন্ধ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেন, বিও অ্যাকাউন্ট ও মার্জিন ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
৩. প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন ও শর্ত মেনে চলে, তবে তাদের আটকাতে আইনি কোনো বাধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, কমিশনের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা। তাই সব শর্ত পূরণ করলে ব্রোকারেজ হাউজগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “ব্যাংকগুলো একীভূত হলেও ব্রোকারেজ হাউজগুলো এখনো আলাদা সত্তা হিসেবে কাজ করছে। যতক্ষণ না ব্রোকারেজগুলো একীভূত করার চূড়ান্ত নির্দেশনা আসছে, ততক্ষণ বর্তমান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াতে কোনো বাধা নেই।”

