দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে ফিরে এখন নিঃস্ব এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা। জীবনের সোনালী সময়গুলো বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে শেষ বয়সে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকার আশায় যে অর্থ তিনি ইউনিয়ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছিলেন, আজ তা ফেরত পেতে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। নিজের জমানো টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি ও তার ছয় সদস্যের পরিবার।
ভুক্তভোগী ওই প্রবাসী লিখেন , বাড়িতে কোনো অভিভাবক না থাকায় প্রবাস জীবনে তিনি কোনো ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারেননি। স্বপ্ন ছিল, একেবারে দেশে ফিরে নিজের হাতে ঘর তুলবেন এবং সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করে বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সুখে কাটাবেন। কিন্তু ব্যাংকের অসহযোগিতায় আজ সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আজ থেকে ১৮ মাস আগে যখন দেশে এসেছিলাম, ব্যাংক আমাকে রিক্ত হস্তে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে পুনরায় প্রবাসে গিয়েছিলাম। এখন একেবারে দেশে ফিরে দেখি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ব্যাংক আমার জমানো টাকা তো দিচ্ছেই না, উল্টো এফডিআর (FDR) ও ডিপিএস (DPS) থাকার অজুহাতে আমার সেভিংস অ্যাকাউন্টটিও ব্লক করে রেখেছে।”
বর্তমানে ওই প্রবাসীর পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ মোট ছয়জন সদস্য রয়েছেন। সঞ্চিত অর্থ আটকে থাকায় সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, “যে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন নিয়ে ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়েছি, টাকার অভাবে আজ তাদের শিক্ষাজীবন কি এখানেই থেমে যাবে? ঘরে ছোট বাচ্চাদের দুধ কেনার টাকা নেই, মায়ের ওষুধের টাকা নেই। বুক ফেটে যাচ্ছে, কার কাছে গিয়ে এই কষ্টের কথা বলব?”
ভুক্তভোগী এই প্রবাসী সরকার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন রাখেন, “আমরা প্রবাসীরা কি শুধু টাকা পাঠানোর যন্ত্র? যদি আপনারা আমাদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারেন এবং আমরা যদি কোনো ব্যবসাও করতে না পারি, তবে অন্তত আমাদের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিন। আমি পরিশ্রমী মানুষ, দয়া চাই না; কাজ করে পরিবার নিয়ে দুবেলা খেয়ে বাঁচতে চাই।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনতিবিলম্বে তাদের পাওনা টাকা ফেরত না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন অসহায় এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।



