নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পুঁজিবাজারের বর্তমান অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে ব্যাংক একীভূতকরণ (Merger) ও নতুন মার্জিন বিধিমালার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের কাছে এক স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রতিকার ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে এ. কে. এম. মিজান উর রশীদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি পেশ করেন।
প্রধান উদ্বেগের বিষয়সমূহ:
স্মারকলিপিতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের নামে গৃহীত কিছু পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের শেষ সঞ্চয়টুকুকে অনিশ্চয়তায় ফেলছে। তাদের উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের জায়গাগুলো হলো:
ব্যাংক একীভূতকরণে বিপর্যয়: এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন অসাধু চক্রের অনিয়ম আড়াল করতে শরিয়াহ ভিত্তিক ৫টি ব্যাংক একীভূত করার হঠকারী সিদ্ধান্তে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
মার্জিন বিধিমালা ২০২৫: এই বিধিমালাকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বিনিয়োগকারীরা বলেন, এটি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
আমানতকারীদের হাহাকার: একীভূত করা ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিনিয়োগকারীদের ৮ দফা সংস্কার প্রস্তাব:
পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে স্মারকলিপিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:
আইপিও সংস্কার: বুক বিল্ডিং ও ডাইরেক্ট লিস্টিং বাতিল করে পুনরায় ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি চালু করা।
জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ইস্যু মূল্যের নিচে থাকা কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার ও অডিট ফার্মকে আইনের আওতায় আনা।
বহুজাতিক কোম্পানির বাধ্যবাধকতা: বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে কমপক্ষে ৪৯% শেয়ার ছাড়তে বাধ্য করা।
ডিভিডেন্ড নিশ্চিতকরণ: তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ন্যূনতম ১০% লভ্যাংশ বাধ্যতামূলক করা এবং ‘নো ডিভিডেন্ড’ প্রথা বিলুপ্ত করা।
কর সুবিধা: লভ্যাংশের ওপর বিদ্যমান ১৫% দ্বৈত কর প্রত্যাহার করা।
প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ: প্লেসমেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ লুণ্ঠন বন্ধ করা (বিশেষ করে জিএমজি এয়ারলাইন্সের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত)।
দক্ষ নেতৃত্ব: বিএসইসি (BSEC)-তে বাজারের খুঁটিনাটি বোঝেন এমন দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান।
তহবিলের স্বচ্ছতা: ১৭-২২ হাজার কোটি টাকার ‘মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রত্যাশা:
বিনিয়োগকারীরা জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে যেন বর্তমান সরকারের এসব ‘আত্মঘাতী’ ও ‘অনৈতিক’ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়া না হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সাধারণ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



