- Trade News 24 - https://www.tradenews24.com -

গভর্নরের আশ্বাসের পরেও টাকা তুলতে পারছেন না একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহক, ২৮ নভেম্বর মানববন্ধনের ডাক

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বস্ত করার পরেও, সম্প্রতি একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের (EXIM, GIB, FSIB, SIBL, Union Bank) গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত আমানত তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের শাখায় পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় এবং জটিলতার কারণে তারা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, যা অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে।

অসহায় গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা দ্রুত ফেরতের দাবিতে আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন।

আশ্বাসের পরও ভোগান্তি: অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসা অনিশ্চিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে ‘বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা হারাবেন না এবং ক্ষুদ্র আমানতকারীরা দ্রুত টাকা ফেরত পাবেন।
কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। মানববন্ধনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক গ্রাহকের পরিবারে গুরুতর অসুস্থ রোগী রয়েছেন, যাদের চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থের প্রয়োজন। জমানো টাকা সময়মতো তুলতে না পারায় তাদের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা পরিবারগুলোতে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।

তাদের স্পষ্ট দাবি: “আমরা কোন অনুদান চাই না, আমরা আমাদের জমানো টাকা ফেরত চাই।”

একীভূতকরণ ও গ্রাহকের শঙ্কা
একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দেবে, তবুও শাখাগুলোতে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা আমানতকারীদের সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট এবং গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র আমানতকারীদের (২ লাখ টাকা পর্যন্ত) প্রথমে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও, মাঠপর্যায়ে সেটির বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।

আগামীকালের কর্মসূচি
একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরবেন এবং দ্রুত তাদের আমানত ফেরতের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দেওয়া আশ্বাসকে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাবেন, যাতে কোনো পরিবারকে যেন জরুরি প্রয়োজনে টাকার অভাবে ভুগতে না হয়।