বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব আছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।
বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়াতে চায় দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। দাম বাড়ানোর সপক্ষে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম এবং দেশে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। সে জন্য কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করে।
বর্তমানে বাজারে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা। এই দাম বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করতে চায় কোম্পানিগুলো। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার আবেদন জানিয়েছে তারা।
রোজার পণ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা হচ্ছে
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজানের আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঋণপত্র (এলসি) খোলায় সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।