নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
দেশে দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়ন (লিকুইডেশন) না করে, বরং পর্ষদ পুনর্গঠন এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সেগুলোকে লাভজনক ধারায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডার এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রাক্তন এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ তারেক স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের খবরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা পুরো আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “অবসায়ন মানে হলো প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাটকারীদের এক ধরণের দায়মুক্তি দেওয়া।” তাই প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবিত সংস্কার ও পদক্ষেপসমূহ:
গভর্ণরের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে বেশকিছু কঠোর এবং গঠনমূলক প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. পর্ষদ পুনর্গঠন: শেয়ারধারী পরিচালকদের পর্ষদ স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর, আমানতকারীদের প্রতিনিধি এবং আর্থিক খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কার্যকরী পর্ষদ গঠন করা।
২. তহবিল সহায়তা: নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদনুক্ত তহবিল সরবরাহ করা।
৩. ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন: খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের শাস্তি বাড়াতে অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০৩ সংশোধন করা। খেলাপি গ্রাহকের অর্থজারি মামলায় ন্যূনতম কারাদণ্ড ৮৪ মাস এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা।
৪. পরিবারের দায়বদ্ধতা: খেলাপি ঋণ গ্রাহকের সিআইবি (CIB) প্রতিবেদনের সাথে পরিবারের সকল সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে বেনামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যবসা পরিচালনা রোধ করা যায়।
৫. এনআই অ্যাক্ট সংশোধন: চেক প্রত্যাখ্যাত (Check Dishonor) হওয়ার শাস্তি নূন্যতম ৩৬ মাসের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা।
৬. গ্রেফতারের ক্ষমতা: ঋণ আদায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিকভারি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে গ্রেফতারি ক্ষমতা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট থানায় আসামীদের সোপর্দ করার বিধান চালু করা।
৭. সম্পদ ক্রোক ও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেকোনো সময় খেলাপি গ্রাহকের সম্পদ ক্রোক এবং বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে পিটিশন দায়ের করার ক্ষমতা রাখা।
এছাড়াও বিগত দিনে অনিয়মের সাথে জড়িত পর্ষদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ত্রৈমাসিক বিশেষ নিরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং বিএসইসি-র চেয়ারম্যান বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই কঠোর পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে আমানতকারী ও কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা পাবে এবং আর্থিক খাত পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।



