- Trade News 24 - https://www.tradenews24.com -

টিকিট বিক্রির আড়ালে অভিনব কায়দায় অর্থ পাচার

প্লেনের টিকিট সিন্ডিকেট ও কারসাজি রোধে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যেই এবার টিকিট বিক্রির আড়ালে অভিনব কায়দায় বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ‘ক্রস বর্ডার’ বা দেশের বাইরে অবৈধভাবে টিকিট বিক্রি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে স্বনামধন্য ট্রাভেল এজেন্সি সায়মন ওভারসিজ লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে আসার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জরুরি তদন্ত শুরু করেছে।

পাচারের অভিনব কৌশল: ‘ক্রস বর্ডার’ টিকিট বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সায়মন ওভারসিজ লিমিটেড তাদের নামে বরাদ্দকৃত বাংলাদেশের ‘গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম’ (জিডিএস) আইডি ব্যবহার করে একটি অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই আইডি ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে টিকিট ইস্যু ও লেনদেন হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের আইডি ব্যবহার করে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় টিকিট বিক্রি হলেও সেই অর্থ বৈধ পথে বাংলাদেশে আসেনি। যাত্রীরা বিদেশের মাটিতে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলেও তা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ মাধ্যমে সেখানেই থেকে গেছে, ফলে বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

১৬ কোটি টাকার গরমিল: মন্ত্রণালয়ের চিঠি
মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত সায়মন ওভারসিজ তাদের জিডিএস আইডি ব্যবহার করে বিদেশ থেকে মোট ১,৮৯৪টি টিকিট ইস্যু করেছে। এই টিকিটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত সোমবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সায়মন ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসফিয়া জান্নাত সালেহ-র কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে না আসার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি: নেপথ্যে আটাব-এর সাবেক নেত্রী
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসফিয়া জান্নাত সালেহ ট্রাভেল এজেন্টদের শীর্ষ সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ’ (আটাব)-এর সাবেক মহাসচিব। অভিযোগ রয়েছে, মহাসচিব থাকাকালীন তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে ট্রাভেল খাতে নানা অনিয়ম ও একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

সংগঠনটির সভাপতি ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে চলতি বছরের আগস্ট মাসে মন্ত্রণালয় আটাব-এর কমিটি বাতিল ঘোষণা করে। কমিটি বাতিলের পরেই আসফিয়ার বিরুদ্ধে এই ক্রস বর্ডার টিকিট কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
খাত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাভেল এজেন্সির মালিক জানান, “আইএটিএ (IATA)-এর নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বিক্রির অর্থ বিএসপি (BSP)-এর মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে যাওয়ার কথা, যা দেশের রিজার্ভে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সায়মন ওভারসিজ বিদেশি এজেন্সিকে নিজেদের আইডি ভাড়া দিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এটি স্পষ্টত মানিলন্ডারিং অপরাধ।”

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।