- Trade News 24 - https://www.tradenews24.com -

ইরানে বিক্ষোভে গুলি চালালেই মার্কিন হস্তক্ষেপ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে কঠোর হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে—তেহরানকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় এবং প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দেন।
‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ ট্রাম্প তার পোস্টে ইরান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘ইরান যদি পুরোনো অভ্যাসের মতো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’’

সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো প্রকার প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তেহরানের কড়া জবাব ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের তাৎক্ষণিক ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গোটা অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং এতে খোদ মার্কিন স্বার্থই ধ্বংস হবে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে বাইরের হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

বিক্ষোভে সহিংসতা ও প্রাণহানি গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের একাধিক প্রদেশে অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার থেকে এটি সহিংস রূপ নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়।

ফার্স-এর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মাহসা আমিনি পরবর্তী বড় আন্দোলন বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ডের পর এটিই ইরানে ছড়িয়ে পড়া সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা ও গণগ্রেফতারের খবরে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একইসঙ্গে ইরান কর্তৃপক্ষকে দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা।