ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

সময়: শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১০:২৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

ট্রাম্পের দাবি ছিল, আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন মিত্ররা সরাসরি সম্মুখসমরে না থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল। এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অপমানজনক এবং ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন স্টারমার।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন মিত্ররা যুদ্ধের সময় সম্মুখভাগ থেকে কিছুটা পেছনে অবস্থান করত। ট্রাম্পের এমন দাবি কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, বরং ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এর জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বলেন, এমন অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত। স্টারমার আরও যোগ করেন, যদি তিনি নিজে এমন কোনো ভুল বক্তব্য দিতেন, তবে অবশ্যই ক্ষমা চাইতেন।

আফগানিস্তানে দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা দেশগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। এই অভিযানে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার ব্রিটিশ সেনা অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৪৫৭ জন প্রাণ হারান। স্টারমার সেই সব শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারিও এই বিতর্কে যুক্ত হয়েছেন। আফগানিস্তানে দুইবার দায়িত্ব পালন করা হ্যারি বলেন, ব্রিটিশ সেনাদের বীরত্ব ও ত্যাগের কথা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে এবং সত্যনিষ্ঠভাবে বলা উচিত। এদিকে পোল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো ন্যাটোভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোও ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অসত্য ও অসম্মানজনক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে বৈঠকের পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেন, তবে আফগানিস্তান নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য স্টারমারের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মুখপাত্র টেলর রজার্স দাবি করেছেন যে, ন্যাটোর অন্য সব দেশ মিলিতভাবে যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একাই তার চেয়ে বেশি অবদান রেখেছে।

তবে ট্রাম্পের এই বৈরী মনোভাব ২০২৬ সালে এসে ন্যাটোর ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা।

Print This Post
নিউজটি ৬১ বার পড়া হয়েছে ।